ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কালুখালীতে জাগ্রত তরুণ সোসাইটির ৭ম বর্ষে পদার্পণ ও আলোচনা সভা Logo শেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত Logo রাজবাড়ীতে পদ্মায় ভাসলো রিকশাচালকের মরদেহ, রিকশা ছিনতাই Logo বালিয়াকান্দিতে ১৩০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ Logo রাজবাড়ী ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল Logo ​রাজবাড়ীতে রাফি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ Logo খানখানাপুরে ১৩১৫ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ Logo বসন্তপুরে ১৭১০ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র বিতরণ Logo খানগঞ্জে ৭৭৮ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ Logo মূলঘর ইউনিয়নে ৮০৪ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ

ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১২ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রী ও চালকরা

ঘন কুয়াশার কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে টানা ১২ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর পূণরায় স্বাভাবিক হয়েছে। এতে নদী পারের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালক-হেলপাররা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

রবিবার(৪ঠা জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ১১টায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে কুয়াশার ঘনত্ব কমে গেলে ফেরি চলাচল শুরু ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত শনিবার রাত সাড়ে ১১ টা হতে নৌরুটে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াশার ঘনত্ব না কমায় টানা ১২ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় বাড়তে থাকে নদী পাড়ের অপেক্ষায় যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আটকা পড়ে অর্ধশত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক।

ফেরি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীবাহী বাসের যাত্রী এবং পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও সহকারীরা। তীব্র শীতের মধ্যে খাবার ও বিশ্রামের সংকটে পড়েছেন তারা। নৌরুটে স্বাভাবিক সময়ে দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তের ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। এই নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৫টি ফেরি চলাচল করে।

ট্রাক চালক আব্দুল মালেক বলেন, “গত রাত থেকে ঘাটে আটকে আছি। তীব্র শীতে ট্রাকের ভেতরে বসে রাত কাটাতে হয়েছে। খাবার পানির খুব কষ্ট হয়েছে। ফেরি বন্ধ থাকলে আমাদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা থাকা দরকার।”

আরেক ট্রাক চালক সোহেল রানা বলেন, “দীর্ঘ সময় ফেরি বন্ধ থাকায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি। মালামাল সময়মতো পৌঁছাতে পারছি না। কুয়াশা হলে আগে থেকেই সতর্ক ব্যবস্থা নিলে এত ভোগান্তি হতো না।”

বাস যাত্রী রাশেদ মাহমুদ বলেন, “সকাল থেকে বাসে বসে আছি। ঠান্ডায় বাচ্চা আর বৃদ্ধদের খুব কষ্ট হচ্ছে। ঘাট এলাকায় বসার জায়গা বা শীত নিবারণের কোনো ব্যবস্থাই নেই।”

অপর এক বাস যাত্রী শিউলি আক্তার বলেন, “ফেরি বন্ধ থাকায় অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে নদী পার হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত এসব অবৈধ ট্রলার চলাচল বন্ধ করা এবং যাত্রীদের নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করা।”

আরেক যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, “শীত আর কুয়াশার মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা খুব কষ্টকর। দ্রুত ফেরি চালু হওয়ায় এখন কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি, তবে এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন।”

এদিকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘন কুয়াশার মাঝে দৌলতদিয়া ঘাটের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে একাধিক ট্রলার অবৈধ ভাবে যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশে চলাচল করছে। ঘন কুয়াশায় ফেরি, লঞ্চসহ সকল প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধের সময় যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধযান ট্রলারে নদী পারাপার হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো: সালাউদ্দিন জানান, কুয়াশার কারণে নৌরুটে দৃশ্যমানতা খুব কমে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তার স্বার্থেই সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। কুয়াশা কমলেই ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।”

ট্যাগস :

কালুখালীতে জাগ্রত তরুণ সোসাইটির ৭ম বর্ষে পদার্পণ ও আলোচনা সভা

ঘন কুয়াশায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১২ ঘণ্টা ফেরি বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রী ও চালকরা

আপডেট সময় ০৩:৪১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

ঘন কুয়াশার কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে টানা ১২ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর পূণরায় স্বাভাবিক হয়েছে। এতে নদী পারের অপেক্ষায় থাকা যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালক-হেলপাররা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

রবিবার(৪ঠা জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ১১টায় দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে কুয়াশার ঘনত্ব কমে গেলে ফেরি চলাচল শুরু ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত শনিবার রাত সাড়ে ১১ টা হতে নৌরুটে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াশার ঘনত্ব না কমায় টানা ১২ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় বাড়তে থাকে নদী পাড়ের অপেক্ষায় যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ। দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আটকা পড়ে অর্ধশত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক।

ফেরি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন যাত্রীবাহী বাসের যাত্রী এবং পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও সহকারীরা। তীব্র শীতের মধ্যে খাবার ও বিশ্রামের সংকটে পড়েছেন তারা। নৌরুটে স্বাভাবিক সময়ে দৌলতদিয়া ঘাট প্রান্তের ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। এই নৌরুটে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৫টি ফেরি চলাচল করে।

ট্রাক চালক আব্দুল মালেক বলেন, “গত রাত থেকে ঘাটে আটকে আছি। তীব্র শীতে ট্রাকের ভেতরে বসে রাত কাটাতে হয়েছে। খাবার পানির খুব কষ্ট হয়েছে। ফেরি বন্ধ থাকলে আমাদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা থাকা দরকার।”

আরেক ট্রাক চালক সোহেল রানা বলেন, “দীর্ঘ সময় ফেরি বন্ধ থাকায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি। মালামাল সময়মতো পৌঁছাতে পারছি না। কুয়াশা হলে আগে থেকেই সতর্ক ব্যবস্থা নিলে এত ভোগান্তি হতো না।”

বাস যাত্রী রাশেদ মাহমুদ বলেন, “সকাল থেকে বাসে বসে আছি। ঠান্ডায় বাচ্চা আর বৃদ্ধদের খুব কষ্ট হচ্ছে। ঘাট এলাকায় বসার জায়গা বা শীত নিবারণের কোনো ব্যবস্থাই নেই।”

অপর এক বাস যাত্রী শিউলি আক্তার বলেন, “ফেরি বন্ধ থাকায় অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে নদী পার হচ্ছে। প্রশাসনের উচিত এসব অবৈধ ট্রলার চলাচল বন্ধ করা এবং যাত্রীদের নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা করা।”

আরেক যাত্রী নজরুল ইসলাম বলেন, “শীত আর কুয়াশার মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা খুব কষ্টকর। দ্রুত ফেরি চালু হওয়ায় এখন কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি, তবে এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন।”

এদিকে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘন কুয়াশার মাঝে দৌলতদিয়া ঘাটের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে একাধিক ট্রলার অবৈধ ভাবে যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশে চলাচল করছে। ঘন কুয়াশায় ফেরি, লঞ্চসহ সকল প্রকার নৌযান চলাচল বন্ধের সময় যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধযান ট্রলারে নদী পারাপার হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি’র দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো: সালাউদ্দিন জানান, কুয়াশার কারণে নৌরুটে দৃশ্যমানতা খুব কমে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তার স্বার্থেই সাময়িকভাবে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। কুয়াশা কমলেই ফেরি চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।”