রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সংলগ্ন সাত্তার মেম্বারপাড়া এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ এবং অবৈধ বালুর চাতাল থেকে নেমে আসা পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন শতাধিক পরিবার।
রবিবার (১২ই জুলাই) দুপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বৃষ্টির মধ্যেই পার্শ্ববর্তী বাইপাস সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এতে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টি ও বালুর স্তূপ থেকে আসা পানিতে পুরো এলাকা তলিয়ে গেছে। অধিকাংশ বাড়িঘরের উঠান ও আঙিনা এখন পানির নিচে। গ্রামীণ সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের বাজারে যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বালুর চাতালের কারণে আমাদের এই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত এই পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা চাই।

ভুক্তভোগী রুমা খাতুন নামে এক গৃহবধূ তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বলেন, আমার স্বামী ঢাকায় একটি বেসরকারি চাকরি করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি কিছুদিন ধরে বাড়িতে আছেন, তাকে ডাক্তার দেখানো দরকার। কিন্তু কোলে ছোট বাচ্চা নিয়ে জলাবদ্ধতার কারণে আমরা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছি। আমরা খুবই মানবেতর দিন কাটাচ্ছি। দয়া করে আমাদের এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচান।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, জলাবদ্ধতা ও ভুক্তভোগী মানুষের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। একই সাথে বালুর চাতাল মালিকদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সরোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, “এলাকাটি নিচু এবং চারদিকে রাস্তা থাকায় পানি বের হওয়ার কোনো স্বাভাবিক পথ নেই। আমরা সাময়িকভাবে জলাবদ্ধতা দূর করতে একযোগে তিনটি শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি সেচের কাজ শুরু করেছি।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিবছরই সামান্য বৃষ্টিতে এখানে কৃত্রিম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই সাময়িক সেচ নয়, বরং অবৈধ বালুর চাতাল উচ্ছেদসহ স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করে তাদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে চিরতরে মুক্তি দেওয়া হোক।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা: 









