রাজবাড়ীতে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার ৭৩তম বর্ষে পদার্পন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে।
গত বুধবার বেলা ১২টায় রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমির দ্বিতীয় তলাতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা ইত্তেফাক পাঠক ফোরাম।
রাজবাড়ীর প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক সংবাদ’র জেলা সংবাদদাতা এম দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ খান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আব্দুল কুদ্দুস বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, রাজবাড়ী রিপোর্টার ইউনিটি’র সাধারণ সম্পাদক মো: শিহাবুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক আসিফ মাহমুদ, ডিবিসি নিউজের দেবাশীষ বিশ্বাস, গ্লোবাল টিভি’র মো: রবিউল ইসলাম, সময় টিভি’র মো: আশিকুর রহমান সহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি মো: মাহফুজুর রহমান।
মুক্ত আনন্দ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নাট্যকার অজয় দাস তালুকদার’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে দৈনিক মাতৃকন্ঠ পত্রিকার চিফ রিপোর্টার আসহাবুল ইয়ামিন রয়েন, দৈনিক ইনকিলাব’র জেলা সংবাদদাতা মো: নজরুল ইসলাম, দৈনিক বাংলাদেশের আলো’র জেলা প্রতিনিধি মো: রফিকুল ইসলাম, ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি মীর সামসুজ্জামান সৌরভ, সারাবাংলা’র জেলা প্রতিনিধি সুজন বিষ্ণু, দৈনিক আজকালের জেলা প্রতিনিধি মহসিন মৃধা, দেশ রুপান্তপর’র মো: হালিম বাবু সহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত রয়েছে, তেমনি রয়েছে সাহসী সাংবাদিকদের কলমের অবদান। দৈনিক ইত্তেফাক মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তিনি বলেন, ইত্তেফাক সবসময় সত্য, ন্যায় ও দেশপ্রেমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানাতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে সংবাদপত্রের ভূমিকা অপরিহার্য।
রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী আব্দুল কুদ্দুস বাবু বলেন, দৈনিক ইত্তেফাক শুধু একটি সংবাদপত্র নয়, এটি একটি ইতিহাস, একটি আন্দোলনের নাম। এই পত্রিকা দেশের সাংবাদিকতার মানদণ্ড স্থাপন করেছে। ইত্তেফাকের লেখনী সবসময় গণমানুষের কথা বলেছে এবং অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতার প্রয়োজন আরও বেড়েছে, আর সে ক্ষেত্রে ইত্তেফাক নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য অনুকরণীয় উদাহরণ। তিনি ইত্তেফাকের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গণমাধ্যম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা পুলিশ ও প্রশাসনের কাজকে আরও স্বচ্ছ করে তোলে। দৈনিক ইত্তেফাক তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সত্য প্রকাশে আপসহীন থেকেছে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে সমাজে অপরাধ দমন ও সচেতনতা বৃদ্ধি আরও সহজ হয়। তিনি ইত্তেফাক পরিবারকে এই গৌরবময় পথচলার জন্য অভিনন্দন জানান।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ খান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনে সংবাদপত্রের ভূমিকা অপরিসীম। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সংবাদপত্র সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করে। দৈনিক ইত্তেফাক দীর্ঘ ৭৩ বছর ধরে দেশ, জাতি ও গণমানুষের পক্ষে নির্ভীকভাবে কথা বলে আসছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইত্তেফাক সাহসী ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসন সবসময় সাংবাদিকদের সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা আরও শক্তিশালী গণতন্ত্র গঠনে ভূমিকা রাখবে।
আলোচনা সভা শেষে দৈনিক ইত্তেফাকের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা হয়।
সাইফুল আলম মিরাজ: 









