ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কালুখালীতে জাগ্রত তরুণ সোসাইটির ৭ম বর্ষে পদার্পণ ও আলোচনা সভা Logo শেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত Logo রাজবাড়ীতে পদ্মায় ভাসলো রিকশাচালকের মরদেহ, রিকশা ছিনতাই Logo বালিয়াকান্দিতে ১৩০০ কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ Logo রাজবাড়ী ফ্রেন্ডস ক্লাবের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল Logo ​রাজবাড়ীতে রাফি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ Logo খানখানাপুরে ১৩১৫ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ Logo বসন্তপুরে ১৭১০ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র বিতরণ Logo খানগঞ্জে ৭৭৮ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ Logo মূলঘর ইউনিয়নে ৮০৪ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ

লাখো ভক্তের সমাগমে আটরশিতে শুরু বিশ্ব উরস শরীফ

  • জয়নুল আবেদীন :
  • আপডেট সময় ০৩:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"source_tags":[],"total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":9},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের মহামহিম প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ শুরু হয়েছে।

সাম্য, শান্তি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছরের মতো এবারও লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে শুক্রবার জুমার নামাজের বিশাল জামাতের পর পবিত্র রওজা শরীফ জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উরস শরীফের সূচনা হয়।

ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে চার দিনব্যাপী এই উরস শরীফ ১০, ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উরস শরীফ উপলক্ষে ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষাধিক ভক্তবৃন্দ সমবেত হয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ব উরস শরীফের সমাপ্তি ঘটবে।

মহাপবিত্র উরস শরীফ উপলক্ষে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলকে নান্দনিক সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ আশেকান, জাকেরান, ধর্মপ্রাণ মুমিন মুসলমান ও ভক্তবৃন্দ বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে উপস্থিত হচ্ছেন। উরস উপলক্ষে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাতসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিদিন ভোর ৩টায় রহমতের সময় থেকে শুরু করে এশার নামাজের পর দয়াল নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ৫০০ বার দরুদ শরীফ নিবেদন করার মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। পাশাপাশি দিনব্যাপী ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলি হজরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) ১৩৫৪ বাংলা সালে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে আগমন করেন। আটরশির নির্জন পল্লীতে জাকের ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে তিনি রাসুল (সা.)-এর সত্য তরিকা প্রচার শুরু করেন।

খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) যেদিন প্রথম আটরশিতে আসেন, সেদিন ছিল পবিত্র ঈদুল আজহার দিন। সে সময় এলাকায় ইসলামী শিক্ষা ও আমলের অভাব ছিল প্রকট। সেই দিন মাত্র তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন—এই স্থানে যেন একদিন বিশাল ঈদের জামাত প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ফরিদপুর জেলার গেরদা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন হজরত ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.)-এর দাদাপীর হজরত সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রহ.)। তিনি সেখানে সত্য ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়ে একসময় কলকাতায় গমন করেন। যাওয়ার পূর্বে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন—“এখানে আমার গোলামের গোলাম আসবে, যার সামনে কোনো অপশক্তিই টিকতে পারবে না।”

পরবর্তীতে সেই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্যে পরিণত করেন হজরত এনায়েতপুরী (কু.ছে.আ.) এবং তাঁর খলিফা খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.)। রাসুল (সা.)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর সাধনার মাধ্যমে তিনি গড়ে তোলেন হেদায়েতের পুণ্যভূমি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল। তাঁর জীবনযাপন ছিল রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও চরিত্রের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

ট্যাগস :

কালুখালীতে জাগ্রত তরুণ সোসাইটির ৭ম বর্ষে পদার্পণ ও আলোচনা সভা

লাখো ভক্তের সমাগমে আটরশিতে শুরু বিশ্ব উরস শরীফ

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের মহামহিম প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ শুরু হয়েছে।

সাম্য, শান্তি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছরের মতো এবারও লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে শুক্রবার জুমার নামাজের বিশাল জামাতের পর পবিত্র রওজা শরীফ জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উরস শরীফের সূচনা হয়।

ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে চার দিনব্যাপী এই উরস শরীফ ১০, ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উরস শরীফ উপলক্ষে ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষাধিক ভক্তবৃন্দ সমবেত হয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ব উরস শরীফের সমাপ্তি ঘটবে।

মহাপবিত্র উরস শরীফ উপলক্ষে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলকে নান্দনিক সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ আশেকান, জাকেরান, ধর্মপ্রাণ মুমিন মুসলমান ও ভক্তবৃন্দ বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে উপস্থিত হচ্ছেন। উরস উপলক্ষে ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাতসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিদিন ভোর ৩টায় রহমতের সময় থেকে শুরু করে এশার নামাজের পর দয়াল নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ৫০০ বার দরুদ শরীফ নিবেদন করার মাধ্যমে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়। পাশাপাশি দিনব্যাপী ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্ব ওলি হজরত খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) ১৩৫৪ বাংলা সালে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে আগমন করেন। আটরশির নির্জন পল্লীতে জাকের ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে তিনি রাসুল (সা.)-এর সত্য তরিকা প্রচার শুরু করেন।

খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) যেদিন প্রথম আটরশিতে আসেন, সেদিন ছিল পবিত্র ঈদুল আজহার দিন। সে সময় এলাকায় ইসলামী শিক্ষা ও আমলের অভাব ছিল প্রকট। সেই দিন মাত্র তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন এবং মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন—এই স্থানে যেন একদিন বিশাল ঈদের জামাত প্রতিষ্ঠিত হয়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের অংশগ্রহণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ফরিদপুর জেলার গেরদা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন হজরত ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.)-এর দাদাপীর হজরত সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রহ.)। তিনি সেখানে সত্য ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হয়ে একসময় কলকাতায় গমন করেন। যাওয়ার পূর্বে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন—“এখানে আমার গোলামের গোলাম আসবে, যার সামনে কোনো অপশক্তিই টিকতে পারবে না।”

পরবর্তীতে সেই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্যে পরিণত করেন হজরত এনায়েতপুরী (কু.ছে.আ.) এবং তাঁর খলিফা খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.)। রাসুল (সা.)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ ৪০ বছর সাধনার মাধ্যমে তিনি গড়ে তোলেন হেদায়েতের পুণ্যভূমি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল। তাঁর জীবনযাপন ছিল রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ ও চরিত্রের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।