ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রামকান্তপুর ইউনিয়নের ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের উন্মুক্ত খসড়া বাজেট ঘোষণা Logo রামকান্তপুর ইউনিয়নে ১১০১টি পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ Logo ​​মিজানপুরে ২০৪১টি হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ Logo আলীপুর ইউনিয়নে ১০৮৩ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ Logo খানখানাপুর ইউনিয়নে ১৩১৫ পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ Logo বসন্তপুর ইউনিয়নে ১৭১০ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ Logo বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নে ১৯৬৬টি পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ Logo মূলঘর ইউনিয়নে ৯০৪টি পরিবারে ভিজিএফের চাল বিতরণ Logo মূলঘর ইউনিয়ন পরিষদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা Logo বাজেট কেবল কিছু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের রূপরেখা——ইউপি চেয়ারম্যান একেএম ইকবাল হোসেন

ঈদের ছুটিতেও সেবা মিলেছে রাজবাড়ীর পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে, খুশি প্রসূতিরা

পবিত্র ঈদ-উল-আযহার ছুটিতে যখন অধিকাংশ মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, তখনও সেবার ব্রত নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মে ব্যস্ত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীরা।

ঈদের ছুটিতেও রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।

গত ১২ই জুন রাজবাড়ীর খানগঞ্জ ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দায়িত্বরত পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরা ছুটির দিনগুলোতেও স্বাভিবক সময়ের মতোই সেবা প্রদান করতে দেখা যায়।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গত ৫ই জুন দুইটি, ১০ই জুন একটি, ১১ই জুন একটি ও ১২ই জুন একটি সহ মোট পাঁচটি নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। একই ভাবে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা, গোয়ালন্দ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এ সেবা চালু রয়েছে। গোয়ালন্দের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল সহ সকল এলাকার সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে এ সেবা পেয়ে খুশি।

সেবা কার্যক্রমের আওতায় গর্ভকালীন সেবা, প্রসব সেবা, প্রসব-পরবর্তী সেবা, সাধারণ চিকিৎসাসেবা, কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামর্শ ও উপকরণ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়।

সেবাগ্রহীতারা জানান, ছুটির সময়েও সেবা পাওয়ায় তারা দারুণভাবে উপকৃত হয়েছেন। এসময় একজন গর্ভবতী মা বলেন, আমরা ভাবছিলাম ঈদের ছুটিতে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে স্বাস্থ্য সেবা বুঝি চিকিৎসা পাব না। কিন্তু কেন্দ্র খোলা পেয়ে খুব স্বস্তি পেয়েছি।

জানা গেছে, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেগুলোতে সপ্তাহের ৭দিন ২৪ ঘন্টা ডেলিভারি সেবায় নিয়োজিত রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরা। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের গর্ভবতি মায়ের ডেলিভারি সহ নারীদের জরুরী সেবায় এ কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রের আওতায় গর্ভবতী এএনসি, পিএনসি, প্রসব সেবা পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন পদ্ধতি ভিত্তিক (খাবার বড়ি, কনডম, ইঞ্জেকশন, আইইউডি ইত্যাদি) সেবা চলমান থাকায় এলাকার মানুষের মধ্যে একধরনের স্বস্তি মিলেছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অ:দা:) ও মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডাঃ এ এইচ মুহাম্মাদুল্লাহ জানান, গর্ভবতী মা ও নবজাতকদের জন্য ঈদের ছুটিতেও যেন স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি। এটি আমাদের জন্য দায়িত্বের পাশাপাশি আনন্দেরও বিষয়।”

তিনি আরো বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং রাজবাড়ী জেলার পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালকের নির্দেশনা মোতাবেক ঈদের টানা নয়দিনের ছুটিতে যাতে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত থাকে সে বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়েছে। আমাদের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ঈদের ছুটিতে সেবা প্রদানও অব্যাহত রাখে।

সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা এমন উদ্যোগকে প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, ঈদের ছুটিতে এমন জনসেবামূলক তৎপরতা সমাজে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

রামকান্তপুর ইউনিয়নের ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের উন্মুক্ত খসড়া বাজেট ঘোষণা

ঈদের ছুটিতেও সেবা মিলেছে রাজবাড়ীর পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে, খুশি প্রসূতিরা

আপডেট সময় ০৮:২১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫

পবিত্র ঈদ-উল-আযহার ছুটিতে যখন অধিকাংশ মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, তখনও সেবার ব্রত নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কর্মে ব্যস্ত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীরা।

ঈদের ছুটিতেও রাজবাড়ী জেলার সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।

গত ১২ই জুন রাজবাড়ীর খানগঞ্জ ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দায়িত্বরত পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরা ছুটির দিনগুলোতেও স্বাভিবক সময়ের মতোই সেবা প্রদান করতে দেখা যায়।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গত ৫ই জুন দুইটি, ১০ই জুন একটি, ১১ই জুন একটি ও ১২ই জুন একটি সহ মোট পাঁচটি নরমাল ডেলিভারি করানো হয়। একই ভাবে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা, গোয়ালন্দ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এ সেবা চালু রয়েছে। গোয়ালন্দের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল সহ সকল এলাকার সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে এ সেবা পেয়ে খুশি।

সেবা কার্যক্রমের আওতায় গর্ভকালীন সেবা, প্রসব সেবা, প্রসব-পরবর্তী সেবা, সাধারণ চিকিৎসাসেবা, কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামর্শ ও উপকরণ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়।

সেবাগ্রহীতারা জানান, ছুটির সময়েও সেবা পাওয়ায় তারা দারুণভাবে উপকৃত হয়েছেন। এসময় একজন গর্ভবতী মা বলেন, আমরা ভাবছিলাম ঈদের ছুটিতে ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে স্বাস্থ্য সেবা বুঝি চিকিৎসা পাব না। কিন্তু কেন্দ্র খোলা পেয়ে খুব স্বস্তি পেয়েছি।

জানা গেছে, ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেগুলোতে সপ্তাহের ৭দিন ২৪ ঘন্টা ডেলিভারি সেবায় নিয়োজিত রয়েছে পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরা। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের গর্ভবতি মায়ের ডেলিভারি সহ নারীদের জরুরী সেবায় এ কার্যক্রম চালু করেছে সরকার। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রের আওতায় গর্ভবতী এএনসি, পিএনসি, প্রসব সেবা পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন পদ্ধতি ভিত্তিক (খাবার বড়ি, কনডম, ইঞ্জেকশন, আইইউডি ইত্যাদি) সেবা চলমান থাকায় এলাকার মানুষের মধ্যে একধরনের স্বস্তি মিলেছে।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অ:দা:) ও মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ডাঃ এ এইচ মুহাম্মাদুল্লাহ জানান, গর্ভবতী মা ও নবজাতকদের জন্য ঈদের ছুটিতেও যেন স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখেছি। এটি আমাদের জন্য দায়িত্বের পাশাপাশি আনন্দেরও বিষয়।”

তিনি আরো বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং রাজবাড়ী জেলার পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালকের নির্দেশনা মোতাবেক ঈদের টানা নয়দিনের ছুটিতে যাতে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত থাকে সে বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয়েছে। আমাদের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ঈদের ছুটিতে সেবা প্রদানও অব্যাহত রাখে।

সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা এমন উদ্যোগকে প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, ঈদের ছুটিতে এমন জনসেবামূলক তৎপরতা সমাজে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।