ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo মিজানপুরে ভিজিএফ’র চাল পেলেন ৬০০ ইলিশ জেলে Logo খানগঞ্জে ৪১০ জেলে পরিবারের মাঝে ভিজিএফ’র চাল বিতরণ Logo প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জাকির হোসেন Logo আইনি অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য—নবাগত পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন Logo রাজবাড়ীতে আনসার ও ভিডিপির বৃক্ষরোপন অভিযানের উদ্ধোধন Logo শহীদওহাবপুরে মাদক বিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত Logo বিনোদপুরের বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদে বাৎসরিক মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo যোগ্য প্রার্থী থাকলে আমাকে ভোট দেবেন না, তাকেই দিন — আব্দুল কাইয়ুম Logo রাজবাড়ীতে অসহায় কৃষকের পাট কেটে দিলো আনসার-ভিডিপি সদস্যরা Logo বালিয়াকান্দিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া ও বাদ্যযন্ত্র সামগ্রী বিতরণ
মা ইলিশ রক্ষায় ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

মিজানপুরে ভিজিএফ’র চাল পেলেন ৬০০ ইলিশ জেলে

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে রাজবাড়ীর কোল ঘেঁষা প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীরবর্তী মিজানপুর ইউনিয়নের নিবন্ধিত ৬০০ জন ইলিশ জেলের মাঝে বিশেষ খাদ্য সহায়তার (ভিজিএফ) চাল বিতরণ করা হয়েছে।

প্রজনন মৌসুমে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় জেলে পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা সচল রাখতে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।

বুধবার (৭ই অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ চাল বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইউনিয়নের প্রশাসক ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: জনি খান।

উদ্বোধনকালে মিজানপুর ইউনিয়নের প্রশাসক মো: জনি খান বলেন, মা ইলিশ রক্ষা করা কেবল সরকারের নয়, আমাদের সকলের সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ব। প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে আমাদের নদ-নদীতে ইলিশের প্রাচুর্য বাড়বে, যার সরাসরি সুফল পাবেন আমাদের জেলে ভাইয়েরাই। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন পরিবারগুলোর যাতে কোনো খাদ্য সংকট না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার এই মানবিক সহায়তা প্রদান করছে। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সকল জেলেকে সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে চাল পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে বলেন, ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে আমাদের সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারিভাবে এই ২৫ কেজি চাল পাওয়ায় আমাদের সাময়িক কষ্ট লাঘব হবে। সরকার যখন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, আমরাও মা ইলিশ রক্ষায় এই সময় নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকব এবং অপরে কেউ নামতে নিষেধ করবো।

চাল বিতরণকালে ট্যাগ অফিসার হিসেবে উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন সদর উপজেলা বিআরডিবি (প্রকল্প কর্মকর্তা) সেলিম রেজা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সদর উপজেলার মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন। এসময় মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের সচেতন করতে সদর উপজেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে জেলেদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

বিতরণ কার্যক্রমকালে মিজানপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার মোল্যা, ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মো: প্লাবন আলী, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: জাকির হোসেন, জেলা কৃষক দলের সদস্য মো: মিজানুর রহমানসহ ইউপির সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চাল বিতরণকালে মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: প্লাবন আলী বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা ইউনিয়নের নিবন্ধিত ও ক্ষুদ্র জেলেদের মাঝে মানবিক সহায়তার ভিজিএফ চাল বিতরণ করছি। ইলিশ প্রজনন সুরক্ষায় ৮ই অক্টোবর হতে ২২দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জেলেদের ইতোমধ্যে সচেতন করা হয়েছে, যেন তারা এ সময়ে নদীতে না নামেন।

ক্ষতিপূরণ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, যেসব পরিবার পুরোপুরি মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল, দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাত্র ২৫ কেজি চালে তাদের সংসার চলে না। তাই জেলেদের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনায় রেখে এবরাদ্দ বাড়িয়ে জনপ্রতি অন্তত ৪০ কেজি করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

ট্যাগস :

মিজানপুরে ভিজিএফ’র চাল পেলেন ৬০০ ইলিশ জেলে

মা ইলিশ রক্ষায় ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

মিজানপুরে ভিজিএফ’র চাল পেলেন ৬০০ ইলিশ জেলে

আপডেট সময় ০৭:১৭:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে রাজবাড়ীর কোল ঘেঁষা প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীরবর্তী মিজানপুর ইউনিয়নের নিবন্ধিত ৬০০ জন ইলিশ জেলের মাঝে বিশেষ খাদ্য সহায়তার (ভিজিএফ) চাল বিতরণ করা হয়েছে।

প্রজনন মৌসুমে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় জেলে পরিবারগুলোর জীবনযাত্রা সচল রাখতে পরিবারপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হয়।

বুধবার (৭ই অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ চাল বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইউনিয়নের প্রশাসক ও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: জনি খান।

উদ্বোধনকালে মিজানপুর ইউনিয়নের প্রশাসক মো: জনি খান বলেন, মা ইলিশ রক্ষা করা কেবল সরকারের নয়, আমাদের সকলের সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ব। প্রজনন মৌসুমে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিলে ভবিষ্যতে আমাদের নদ-নদীতে ইলিশের প্রাচুর্য বাড়বে, যার সরাসরি সুফল পাবেন আমাদের জেলে ভাইয়েরাই। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন পরিবারগুলোর যাতে কোনো খাদ্য সংকট না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার এই মানবিক সহায়তা প্রদান করছে। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ইলিশ সম্পদ রক্ষায় সকল জেলেকে সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে চাল পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে বলেন, ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে আমাদের সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারিভাবে এই ২৫ কেজি চাল পাওয়ায় আমাদের সাময়িক কষ্ট লাঘব হবে। সরকার যখন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, আমরাও মা ইলিশ রক্ষায় এই সময় নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকব এবং অপরে কেউ নামতে নিষেধ করবো।

চাল বিতরণকালে ট্যাগ অফিসার হিসেবে উপস্থিত থেকে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন সদর উপজেলা বিআরডিবি (প্রকল্প কর্মকর্তা) সেলিম রেজা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সদর উপজেলার মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন। এসময় মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের সচেতন করতে সদর উপজেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে জেলেদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

বিতরণ কার্যক্রমকালে মিজানপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার মোল্যা, ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মো: প্লাবন আলী, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: জাকির হোসেন, জেলা কৃষক দলের সদস্য মো: মিজানুর রহমানসহ ইউপির সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চাল বিতরণকালে মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো: প্লাবন আলী বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা ইউনিয়নের নিবন্ধিত ও ক্ষুদ্র জেলেদের মাঝে মানবিক সহায়তার ভিজিএফ চাল বিতরণ করছি। ইলিশ প্রজনন সুরক্ষায় ৮ই অক্টোবর হতে ২২দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জেলেদের ইতোমধ্যে সচেতন করা হয়েছে, যেন তারা এ সময়ে নদীতে না নামেন।

ক্ষতিপূরণ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, যেসব পরিবার পুরোপুরি মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল, দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাত্র ২৫ কেজি চালে তাদের সংসার চলে না। তাই জেলেদের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনায় রেখে এবরাদ্দ বাড়িয়ে জনপ্রতি অন্তত ৪০ কেজি করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।